ফের ভয়ঙ্কর হামলা! ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলো কাঁপল রুশ মিসাইলে, মৃত ৯, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু

ফের আগ্রাসী মেজাজে রাশিয়া। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, ডনিপ্রো এবং খারকিভ-সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত কয়েক দিন আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, মস্কো ফের ভয়ঙ্কর কোনো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই আশঙ্কাই যেন সত্যি হলো এই রক্তক্ষয়ী দিনে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার এই হামলায় অন্তত ৯ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ডনিপ্রো অঞ্চলে। সেখানকার গভর্নর ওলেক্সান্দার হানঝা টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শহরের একাধিক জনবহুল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, বহুতল বাসভবনগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, রাস্তার সারি সারি গাড়িতে আগুন ধরেছে এবং শিশুদের খেলার মাঠ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, কিয়েভে মৃতের সংখ্যা ৪ এবং আহতের সংখ্যা ৫১। আহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। শহরের একটি ২৪ তলা বহুতল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত করায় ভবনটির একাংশ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকে রয়েছেন। এছাড়া একটি ৯ তলা ভবনেও বিধ্বংসী আগুন লাগে, যার ফলে শহরের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার মুহূর্তে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও রুশ মিসাইলের তীব্রতা রুখতে হিমশিম খেতে হয় ইউক্রেনীয় বাহিনীকে।

ভয়াবহ এই আক্রমণের সময় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ প্রাণে বাঁচতে কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাতে গোনা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গদি ও খাবার নিয়ে তারা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাতে বাধ্য হন, যখন মাথার ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। এদিকে, খারকিভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে চার বছরে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে শান্তি আলোচনার টেবিলে খুব একটা অগ্রগতি দেখা যায়নি। বারবার আন্তর্জাতিক মহল থেকে যুদ্ধবিরতির ডাক দেওয়া হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। এই নতুন হামলায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আক্রমণ ইউক্রেনের জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে এবং যুদ্ধের উত্তাপ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy