শৈশবের খেলার সাথী ইশা আর মিশা। একসময় যারা পুতুলের বিয়ে দিত, আজ তারা জীবনের কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে। ইশা আজ শহরের সফল বিজ্ঞানী, আধুনিক ও স্পষ্টভাষী। অন্যদিকে, মিশা তার সমস্ত প্রতিভা আর স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে গ্রামের রক্ষণশীল পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এক ‘আদর্শ’ মেয়ে। সম্প্রতি মিশার বিয়ে ঠিক হয়েছে পাশের গ্রামের এক বয়সে বড়, অশিক্ষিত কিন্তু বিত্তশালী জমিদারের সাথে। পরিবারের সম্মানের খাতিরে এই অসম বিয়েতে মুখ বুজে সায় দিয়েছিল মিশা। কিন্তু ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এল ইশা।
গৃহলক্ষ্মী সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইশা মিশাকে তার ল্যাবরেটরিতে নিয়ে গিয়ে এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর পরীক্ষা দেখায়। সে একটি ব্যাঙকে ফুটন্ত জলে ফেললে ব্যাঙটি তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু অন্য একটি পাত্রে ঠান্ডা জলে ব্যাঙটিকে রেখে যখন ধীরে ধীরে আঁচ বাড়ানো হয়, ব্যাঙটি নিজেকে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করে। একসময় জল ফুটতে শুরু করলেও ব্যাঙটি আর বেরোনোর শক্তি পায় না এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়া মিশাকে ইশা এক চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ইশা বলে, “ব্যাঙটি গরম জলের জন্য মরেনি, মরেছে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাসের কারণে। ঠিক তোমার মতো!” মিশা বুঝতে পারে, ছোটবেলা থেকে মূল্যবোধ আর ত্যাগের নামে সে আসলে ওই ব্যাঙটার মতোই তিলে তিলে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিচ্ছে। অন্যের ইচ্ছায় নিজেকে মানিয়ে নিতে নিতে সে আজ নিজের জীবনের সবথেকে বড় সিদ্ধান্তেও আপোষ করতে বসেছে। বন্ধুর এই তীক্ষ্ণ শিক্ষা মিশার অন্তরে কয়েক হাজার প্রশ্ন জাগিয়ে দেয়। নিজের সুখী হওয়ার অধিকার কি তবে অন্যের হাতেই থাকবে? এই প্রশ্ন নিয়ে ঘরে ফেরে মিশা।





