“প্রিয় তারেক রহমান…!” বাংলাদেশে পালাবদলের পর দিদির শুভেচ্ছাবার্তায় কিসের ইঙ্গিত? নয়া সমীকরণ

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনাদেশ এখন স্পষ্ট। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর ওপার বাংলায় এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মুহূর্তেই এক অভূতপূর্ব এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তারেক রহমানকে সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশে জনাদেশ স্পষ্ট হয়েছে। তারেক রহমান সাহেব ও তাঁর দলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি, দুই বাংলার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সুসম্পর্কের মাধ্যমেই আগামী দিনে মানুষের সুদিন ফিরবে।”

তারেক রহমান ও মমতার নয়া ‘কেমিস্ট্রি’: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই বার্তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সুসম্পর্ক থাকলেও, বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নতুন শাসনের সাথে তাল মিলিয়ে চলাই নবান্নের লক্ষ্য। ‘সুসম্পর্কেই সুদিন’—এই বাক্যের মাধ্যমে মমতা আসলে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের বার্তাই দিতে চেয়েছেন।

প্রতিবেশী কূটনীতি ও বাংলার প্রত্যাশা: ১. সীমান্ত ও বাণিজ্য: বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্যিক আদান-প্রদান আরও সচল করার দিকে নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের। ২. তিস্তা ইস্যু: তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কোনো রাস্তা খোলে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে। ৩. সাংস্কৃতিক মিলন: দুই বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন আরও মজবুত করতে মমতার এই বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ: অবশ্য মমতার এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও দুই বাংলার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে নবান্ন স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখাই এই মুহূর্তে বাংলার অগ্রাধিকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy