প্রশাসনের সবস্তরে তৃণমূলের প্রচার! ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নিয়ে মুখ্যসচিবের তত্ত্বাবধানে ভোট প্রচারের ছক ফাঁসের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ‘১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের উন্নয়নের পাঁচালি’কে সামনে রেখে জোর কদমে প্রচারে নেমেছে। কিন্তু এই প্রচারের জন্য সরকারি কর্মচারীদের এবং প্রশাসনের সব স্তরকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার বিজেপির রাজ্য দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের তত্ত্বাবধানেই রাজ্যজুড়ে এই প্রচার কর্মসূচি চালাবে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।

‘উন্নয়নের পাঁচালির’ পর্দাফাঁস

বিরোধী দলনেতার দাবি, গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেলার ডিএম (জেলাশাসক) এবং বিডিও-দের (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার) নির্দেশ দিয়েছেন যে গত ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ভালো কাজের প্রচার চালাতে হবে জেলায়-জেলায়। সরকারের সবক’টি প্রকল্পের কথা তুলে ধরতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, এই নির্দেশে আরও বলা হয়েছে যে জেলাশাসকদের ও বিডিও-দের এখন থেকে প্রচারকে সর্বোচ্চস্তরে নিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি এলাকাকে নিবিড় প্রচারের আওতায় আনতে হবে এবং বলতে হবে এই কাজ শুধুমাত্র রাজ্য সরকারই করছে।

প্রচার-বিধি ও টার্গেট

প্রচার কাজে লিফলেট ও মাইক ব্যবহার করতে হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া হোর্ডিং এলাকায় এলাকায় দৃশ্যমান ভাবে রাখতে হবে। ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড ও উন্নয়নের পাঁচালি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের চ্যালেঞ্জ।

বিরোধী দলনেতার দাবি, প্রচার কাজ শেষ হলে জেলাশাসকদের গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে একটি বৈঠক করতে হবে। সেই বৈঠকে এলাকার জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য এবং গ্রামবাসীদের উপস্থিতি ন্যূনতম ৫০০ জন নিশ্চিত করতে হবে। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করতে হবে এবং উপস্থিতির মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ মহিলা থাকতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বলেন, “মানুষকে বলব, এই মিটিংগুলোতে গিয়ে চাকরির তালিকা দেখতে চাইবেন, কেন বাড়ি বা শৌচালয় পাননি, কেন জল পৌঁছায়নি, কেন মহিলাদের নিরাপত্তা নেই— সেই প্রশ্ন করবেন।”

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং রাহুল সিনহা (নিজস্ব ছবি)।

বিজেপিতে যোগদানের কমিটি গঠন

অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগদানের আবেদনকারীদের জন্য রাজ্যস্তরে একটি বিশেষ টিম তৈরি হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়।

তিনি জানান, অরাজনৈতিক মানুষ বা যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, তাঁদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়ার কাজ বুথ, মণ্ডল ও জেলাস্তরে শুরু হয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে মেদিনীপুর-চব্বিশ পরগনা পর্যন্ত বিজেপিতে যোগদান করতে আগ্রহী।

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, বিজেপি দশ শতাংশ ভোট বাড়ানো এবং ৫০ লক্ষ বাড়তি ভোট পক্ষে আনার জন্য প্রদেশ সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি কর্মসূচি শুরু করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবীরা—অধ্যাপক, শিক্ষক, ডাক্তার, অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক, কবি-সাহিত্যিক—যারা বিনা শর্তে বিজেপিতে যোগ দিতে চান, তাদের আবেদন দু’সপ্তাহ ধরে গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিন তিনজনের যোগদানের কথাও ঘোষণা করেন তিনি: অধ্যাপক অজয়কুমার দাস, অধ্যাপক সঞ্জীব হাঁসদা এবং পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করে বঙ্কিম বিশ্বাস।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy