রাজ্যে পালাবদলের পরেই প্রশাসনিক স্তরে এক ঐতিহাসিক এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। গত কয়েক বছর ধরে চলে আসা ‘পুনর্নিয়োগ’ (Re-employment) বা ‘চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি’র (Extension) প্রথায় পাকাপাকিভাবে ইতি টানা হলো। নবান্ন সূত্রে খবর, সরকারের এই নতুন নির্দেশের ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও আধিকারিকদের একযোগে বিদায় নিতে হচ্ছে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানো এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, অবসর নেওয়ার পরেও প্রভাবশালী আধিকারিকরা বছরের পর বছর একই পদে থেকে যাওয়ায় তরুণ অফিসারদের পদোন্নতি আটকে যাচ্ছিল। নতুন সরকার মনে করছে, প্রশাসনের গতি বাড়াতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন রক্ত ও আধুনিক চিন্তাভাবনার প্রয়োজন অনেক বেশি।
প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল: মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের ফলে কয়েকশো আধিকারিক ও উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যারা অবসরের পর বিশেষ চুক্তির ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করছিলেন, তাঁদের দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই সরকারি অফিসগুলোতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যেমন জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে খুশির হাওয়া, অন্যদিকে অভিজ্ঞতার অভাব ঘটবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ুণ ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার: সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি পূরণ করা হবে। কোনোভাবেই রাজনৈতিক আনুকূল্যে বা ব্যক্তিগত প্রভাবে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো চলবে না। যারা বর্তমানে এক্সটেনশনে রয়েছেন, তাঁদের মেয়াদ ফুরানোর আগেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হতে পারে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের প্রতিক্রিয়া: বিরোধীরা একে ‘শুদ্ধিকরণ’ বললেও, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন এটি একটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। এর ফলে সরকারি কোষাগারে ভাতার চাপ যেমন কমবে, তেমনই প্রশাসনিক কাজে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের এই প্রথম বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বার্তা দিচ্ছে যে, প্রশাসনে এখন আর ‘ফেভারিটিজম’ নয়, বরং কাজের স্বচ্ছতাই হবে শেষ কথা।





