পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে একের পর এক বড়সড় রদবদল নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক ময়দান। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায়। নয়াদিল্লিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এক রাতের মধ্যে এই ব্যাপক রদবদল বিজেপির জন্য ‘ব্যাকফায়ার’ বা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি এদিন প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রশাসনিক রদবদলের খতিয়ান:
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় রাতারাতি আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন
মুখ্যসচিব: নন্দিনী চক্রবর্তীর পরিবর্তে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
স্বরাষ্ট্রসচিব: জগদীশ প্রসাদ মিনার জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হলেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ।
পুলিশ প্রশাসন: রাজ্য পুলিশের ডিজিপি পদে পীযুষ পান্ডের বদলে এলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় দায়িত্ব পেলেন অজয় কুমার নন্দা।
সৌগত রায়ের মতে, কমিশনের এই নিরপেক্ষতার অভাব সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা বাংলা দখলের লড়াইয়ে বিজেপিকে অনেকটাই পিছিয়ে দেবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবং সাইবার ক্রাইম ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মতো ইস্যুতে নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতেই কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়লে অতীতের নির্বাচনী হিংসার অভিযোগগুলো কমবে বলে আশা রাখছে সাধারণ মানুষ। ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে এই প্রশাসনিক বদল রাজ্য রাজনীতিতে কত বড় প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।