ভ্রমণের নেশা যে এভাবে প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সুন্দর মনোরম পরিবেশে ঘুরতে গিয়ে এক বীভৎস পরিণতির শিকার হলেন এক পর্যটক। ঝোপঝাড়ের পাশে একটু অসতর্ক হয়ে বসতেই প্যান্টের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল বিষধর সাপ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গোপনাঙ্গে মরণ-কামড় বসাল সেই সাপটি। বিষক্রিয়ায় কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিথর হয়ে পড়লেন ওই ব্যক্তি।
ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একদল পর্যটক নির্জন প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্যাম্পিং করতে গিয়েছিলেন। দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর এক যুবক বিশ্রাম নিতে ঝোপের কাছে একটি পাথরের ওপর বসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যুবকটি বুঝতেও পারেননি যে তাঁর প্যান্টের নিচ দিয়ে একটি বিষধর কেউটে সাপ ঢুকে পড়েছে। হঠাৎই তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠেন তিনি। দেখা যায়, সাপটি তাঁর নিম্নাঙ্গে কামড় দিয়ে দ্রুত ঝোপের আড়ালে পালিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি: সঙ্গীরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশে সরাসরি কামড় দেওয়ায় বিষ অত্যন্ত দ্রুত রক্তস্রোতে মিশে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। অ্যান্টি-ভেনাম দেওয়ার মতো ন্যূনতম সময়টুকুও পাননি চিকিৎসকরা।
পর্যটকদের জন্য জরুরি সতর্কতা: এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন:
ঝোপঝাড়ে বসার আগে সাবধান: ক্যাম্পিং বা ট্র্যাকিংয়ের সময় ঘন ঘাস বা ঝোপের মধ্যে বসার আগে জায়গাটি লাঠি দিয়ে পরীক্ষা করে নিন।
পোশাকের বিষয়ে নজর: গভীর জঙ্গলে বা পাহাড়ে ঘুরতে গেলে সবসময় ঢিলেঢালা প্যান্টের বদলে পায়ের গোড়ালির কাছে টাইট বা বুট জুতো ব্যবহার করা উচিত।
প্রাথমিক চিকিৎসা: সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে স্থির রাখা এবং দ্রুততম সময়ে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই একমাত্র বাঁচার পথ। ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট করা আত্মঘাতী হতে পারে।
প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে গিয়ে সামান্য অসতর্কতা কীভাবে যমের দুয়ারে পৌঁছে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে রইল।





