পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) সরবরাহে টান পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। দীর্ঘ কয়েক বছর পর ফের রান্নার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রেশন দোকানগুলির মাধ্যমে কেরোসিন তেল বিতরণের পথে হাঁটল সরকার। পশ্চিমবঙ্গ এই সংকটের মোকাবিলায় কেন্দ্র থেকে অতিরিক্ত ৪১৬৪ কিলো লিটার কেরোসিন বরাদ্দ পেয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির মেজাজ দেখা দিয়েছে।
কেন এই জরুরি বরাদ্দ? ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অস্থির। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের আমদানিতেও। দেশজুড়ে প্যানিক বুকিংয়ের ফলে গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন চেন কার্যত ভেঙে পড়ার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি যাতে অন্তত চাল-ডাল রান্না করতে পারেন, সেই জন্যই ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশন’-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই এই অতিরিক্ত ৪১৬৪ কিলো লিটার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দাম ও বিতরণের নিয়ম:
-
কোথায় মিলবে: এই কেরোসিন প্রধানত রেশন দোকান বা ফেয়ার প্রাইস শপ এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি তেল সংস্থার আউটলেট থেকে মিলবে।
-
দাম কত: যদিও সুনির্দিষ্ট লিটার প্রতি দাম এখনও জেলা স্তরে চূড়ান্ত হয়নি, তবে মনে করা হচ্ছে এটি ভর্তুকিযুক্ত (Subsidized) দামেই দেওয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে সংগ্রহ করতে পারেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের রেকর্ড অনুযায়ী কলকাতায় এর দাম ছিল লিটার প্রতি ৬০.০৫ টাকা। নতুন এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবহন খরচ অনুযায়ী সামান্য কম-বেশি হতে পারে।
-
পরিমাণ: প্রতি উপভোক্তা মাসে গড়ে আধা লিটার থেকে এক লিটার পর্যন্ত কেরোসিন পেতে পারেন।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী লোকসভায় আশ্বস্ত করেছেন যে, জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। আগামী ৫ দিনে গ্যাসের উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে। তবে আপাতত বিকল্প হিসেবে এই কেরোসিন বরাদ্দ মানুষের বিড়ম্বনা কমাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নবান্ন ইতিমধ্যেই জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে এই বরাদ্দের সঠিক বণ্টন হয় এবং কেরোসিন যাতে কালোবাজারি না হয়।