একদিকে ভারতের গর্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO), অন্যদিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন—সর্বত্র পৌঁছে গিয়েছিল একটি রহস্যময় ইমেল। সেই ইমেলে দাবি করা হয়েছিল, প্রেরক স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদধন্য এবং তিনি ভারতের সামরিক বাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে জেট ইঞ্জিন তৈরিতে সরকারকে সাহায্য করছেন। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই ফাঁস হয়ে গেল সব ধাপ্পাবাজি। প্রধানমন্ত্রীর নাম অপব্যবহার করার অভিযোগে দিল্লির বসন্তকুঞ্জের বাসিন্দা নিশীথ কোহলিকে গ্রেফতার করল সিবিআই (CBI)।
সিবিআইয়ের এফআইআর অনুযায়ী, নিশীথ কোহলি নিজেকে টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে একের পর এক প্রভাবশালী দফতরে ইমেল পাঠিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL), এবং ডিআরডিও (DRDO)-র মতো সংস্থাতেও নিজের জাল বিছিয়েছিলেন তিনি। নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিশীথ দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি কে মিশ্রের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এবং মোদীজি স্বয়ং এই প্রজেক্টে তাঁর ওপর ভরসা রেখেছেন। এমনকি আমেরিকার নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভাইস অ্যাডমিরাল জর্জ এম উইকফকেও ইমেল পাঠিয়ে একই কথা বলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের মার্চ মাসে, যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সিবিআই-এর কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিবিআই জানতে পারে, নিশীথ কোহলি ২০০২ ব্যাচের একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়েও সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামের অপব্যবহার করছিলেন পেশাগত সুবিধা আদায়ের জন্য। এটি কেবল একটি জালিয়াতি নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক বিষয় বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।