বিশ্বজুড়ে তেলের অগ্নিমূল্যের মধ্যেই ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর। কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করির একটি সাহসী প্রস্তাব সফল হলে দেশে পেট্রোলের দাম অবিশ্বাস্যভাবে কমে লিটার প্রতি ৬০-৭০ টাকায় নেমে আসতে পারে। সরকারের এই নতুন ‘ইথানল পরিকল্পনা’ ভারতের জ্বালানি অর্থনীতিতে বড়সড় বিপ্লব আনতে চলেছে।
কেন আকাশছোঁয়া তেলের দাম?
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের অস্থির। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় আমেরিকা ও চীনের মতো দেশগুলিও হিমশিম খাচ্ছে। ভারত তার তেলের চাহিদার প্রায় ৮৭% আমদানি করে, যার জন্য বছরে ব্যয় হয় ২২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। এই আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতেই মোদী সরকার এখন ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ বা ইথানল মিশ্রণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে।
গড়করির ‘৬০ টাকা’র ম্যাজিক ফরমূলা
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি ভারতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০০% ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E100) ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে:
ইথানল দেশীয় কৃষিপণ্য (আখ, ভুট্টা, পচা আলু, চাল, গম) থেকে তৈরি হয়।
এর উৎপাদন খরচ পেট্রোলের তুলনায় অনেক কম।
বর্তমানে দেশে ২০% ইথানল (E20) মিশ্রিত পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে।
গড়করি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, উৎপাদন বাড়লে এবং ১০০% ইথানল ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষ প্রতি লিটার জ্বালানি মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পেতে পারেন।
উপকার পাবে কারা?
১. কৃষক: ইথানল তৈরির কাঁচামাল কৃষকদের থেকে কেনা হবে, ফলে তাঁদের আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। ২. সাধারণ মানুষ: পেট্রোলের লিটার পিছু ১০০ টাকার বোঝা থেকে মুক্তি মিলবে। ৩. দেশ: বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশ দূষণ কমবে।
বাস্তবায়নের পথে চ্যালেঞ্জ
তবে ১০০% ইথানল ব্যবহারের জন্য সাধারণ ইঞ্জিনের বদলে বিশেষ ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল (FFV) প্রয়োজন। সরকার ইতিমধ্যেই গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিকে এই ধরণের ইঞ্জিন তৈরিতে উৎসাহ দিচ্ছে। বর্তমানে ভারতের বেশিরভাগ নতুন গাড়ি ২০% ইথানল মিশ্রণ (E20) সমর্থন করে।
এক নজরে বর্তমান চিত্র:
আমদানি নির্ভরতা: ৮৭%
সাশ্রয়: ই২০ মিশ্রণের ফলে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ১০০% ইথানল বা E100।





