পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ। ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতেই ভারতে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষকে সেই মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচাতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পেট্রোলের ওপর লিটার প্রতি শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরাসরি ১০ টাকা শুল্ক ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে, ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ টাকা থেকে কমিয়ে সরাসরি ‘শূন্য’ (Zero) করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই আবহে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে হরমজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় যখন বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন এই শুল্ক ছাড় তেল সংস্থাগুলোর ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাবে।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে ১২২ ডলারে পৌঁছে গেলেও ভারত সরকার সাধারণ মানুষের ওপর সেই বোঝা চাপাতে চায়নি। এই শুল্ক হ্রাসের ফলে সরকারের কোষাগারে বছরে প্রায় ১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে, কিন্তু মোদী সরকার জনগণের সুরক্ষা দিতেই এই “বোল্ড” সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও তেল সংস্থাগুলো বর্তমানে লিটার প্রতি বিশাল লোকসান (আন্ডার রিকভারি) বহন করছে, তাই পাম্পে এখনই দাম কমার সম্ভাবনা কম হলেও, অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো দাম বাড়ার সম্ভাবনা আপাতত আটকে দিল এই শুল্ক ছাড়।