দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ফের ভোটগ্রহণ ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বুধবার সকাল থেকেই ২৮৫টি বুথে চলছে পুনর্নির্বাচন। নির্বাচনী উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকলেও, ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের কোনো খামতি নেই। সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে এই কেন্দ্রে।
ভোটের দিন সকাল থেকেই পুরো এলাকা যেন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের রুট মার্চে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ফলতার অলিগলি। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘পুষ্পা’র এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ফলতার শ্রীরামপুর গ্রামে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের অভয় দিয়েছেন, যাতে কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই সাধারণ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
এই পুনর্নির্বাচনের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত নাটকীয়। নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নাটকীয়ভাবে নিজেকে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে এবং এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও, সকাল থেকেই বুথের বাইরে লাইন চোখে পড়ার মতো।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৮৫টি বুথেই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি এবং পুলিশের কড়া নজরদারিতে কোথাও যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। শ্রীরামপুরসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজনীতির কারবারিদের মতে, ফলতার এই পুনর্নির্বাচন শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং এর ফলাফল আগামী দিনে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণও অনেকটাই বদলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে দিনশেষে কত শতাংশ ভোট পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি কার মুখে ফোটে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে, যার ওপর নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।





