পুলিশের ৫ ভুলেই কি মুক্তি পেলেন খুনে অভিযুক্ত স্ত্রী? রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় শোরগোল!

ইন্দোরের প্রথিতযশা ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুনের মূল অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী প্রায় ১১ মাস পর শিলং আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। সাধারণ মানুষ যখন বিচারব্যবস্থা নিয়ে সরব, তখন আদালতের নির্দেশনামায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিচারকের রায়ে স্পষ্ট যে, সোনমের জামিন পাওয়ার নেপথ্যে আদালতের কোনও ত্রুটি নয়, বরং পুলিশের তদন্তে থাকা ৪-৫টি গুরুতর ভুলই অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশের প্রথম এবং প্রধান ভুল ছিল মামলার নথিপত্রে ধারার গরমিল। যেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) ধারা অর্থাৎ খুনের ধারা প্রয়োগ করার কথা, সেখানে কেস ডায়েরিতে ৪০৩(১) ধারা লেখা ছিল। এই মারাত্মক আইনি ত্রুটি শুনানির সময় সোনমের আইনজীবীকে বাড়তি সুবিধা দেয়। দ্বিতীয়ত, গাজিপুর থেকে গ্রেফতারির সময় ডায়েরিতে সময় এবং কারণ স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি পুলিশ। এমনকি সোনমকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন তাকে তার অপরাধের ধারা সম্পর্কেও অবহিত করা হয়নি—যা আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

এখানেই শেষ নয়, আদালত জানিয়েছে গ্রেফতারির পর সোনমকে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, তার কোনও রেকর্ড পুলিশি ডায়েরিতে নেই। এই পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলোই সোনমের জামিনের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

ফিরে দেখা সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড:
২০২৫ সালের ১১ মে ইন্দোরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে সোনমের বিয়ে হয়। ২৩ মে মেঘালয়ে হানিমুন চলাকালীন নিখোঁজ হন রাজা। ২ জুন চেরাপুঞ্জির এক গভীর খাদ থেকে তাঁর পচন ধরা দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে উঠে আসে সোনম ও তাঁর প্রেমিকের নাম। ৮ জুন গাজিপুর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সোনম শিলং জেলে বন্দি ছিলেন।

ছেলের খুনি জামিন পাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন রাজার মা উমা রঘুবংশী। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “টাকার জোরে খুনিরাও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।” তবে হাল ছাড়তে নারাজ রাজার পরিবার। তাঁর ভাই বিপিন জানিয়েছেন, পুলিশের এই গাফিলতির বিরুদ্ধে এবং সোনমের জামিন বাতিলের দাবিতে তাঁরা দ্রুত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy