আইন প্রণেতা যখন আইনভক্ষক হয়ে ওঠেন, তখন পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল হুগলির শ্রীরামপুরে। কর্তব্যরত এক পুলিশ অফিসারের (ASI) নাকে ঘুষি মেরে রক্ত ঝরানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল কাউন্সিলর। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃত কাউন্সিলরকে শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত কী?
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই শ্রীরামপুরের একটি এলাকায় অশান্তি দানা বাঁধছিল। সেই গোলমাল মেটাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময়ই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর। কথা কাটাকাটি চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে ওই কাউন্সিলর কর্তব্যরত এএসআই-এর নাকে সজোরে ঘুষি মারেন। আকস্মিক এই হামলায় রক্তাক্ত হন ওই পুলিশ অফিসার।
থানায় বিক্ষোভ ও গ্রেফতারি
এক জন উর্দিধারী আধিকারিকের ওপর এমন আক্রমণের খবর চাউর হতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। প্রশাসনের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ কালক্ষেপ না করেই ওই কাউন্সিলরকে আটক করে এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। যদিও অভিযুক্ত কাউন্সিলরের অনুগামীদের দাবি, তাঁকে উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা এবং সরকারি আধিকারিককে মারধরের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতের কড়া নির্দেশ
বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তায় ধৃত তৃণমূল নেতাকে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ৭ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। আপাতত আদালতের নির্দেশে শ্রীঘরেই ঠাঁই হয়েছে তাঁর।
চাপে শাসকদল
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে যখন চারদিকে কাটাছেঁড়া চলছে, তখন দলীয় কাউন্সিলরের এমন আচরণে অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। বিরোধীরা এই ঘটনাকে ‘জঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
শ্রীরামপুরের এই ঘটনার পরবর্তী আপডেট এবং আইনি মোড় জানতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার কি মনে হয়, জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণ কি ক্ষমার অযোগ্য? কমেন্টে আমাদের জানান।





