পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা SIR (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিনেই আবেদনকারীদের উপস্থিতি এবং কমিশনের কড়া অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরিতে কোনো আপস করা হবে না।
ট্রাইব্যুনালের কাজ ও হাজিরা: কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় শুনানির জন্য যাঁদের তলব করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
সাফল্য: ১৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৬ জনই সশরীরে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে নিজেদের নথিপত্র পেশ করেছেন।
নথি যাচাই: আবেদনকারীরা তাঁদের আধার কার্ড, পুরোনো ভোটার কার্ড এবং বাসস্থানের প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা এই নথিগুলি খতিয়ে দেখে তবেই নাম পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেবেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ: নির্বাচনের আবহে এলাকায় যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায় এবং ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:
নতুন টোল ফ্রি নম্বর: সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত করতে একটি নতুন টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো নাগরিক সরাসরি কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে পারবেন।
নিরাপত্তা জোরদার: ট্রাইব্যুনাল চত্বর এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব খাটানো না যায়।
কেন এই তৎপরতা? সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের পর নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে চাইছে যে, প্রকৃত ভোটাররা যেন কোনোভাবেই তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। ট্রাইব্যুনালের এই দ্রুত পদক্ষেপ সেই আস্থার জায়গাটিই মজবুত করছে।
আগামী পদক্ষেপ: যাঁরা প্রথম দিন আসতে পারেননি, তাঁদের আবারও সুযোগ দেওয়া হবে কি না তা কমিশন খতিয়ে দেখছে। তবে যারা ইতিমধ্যে শুনানি সেরেছেন, তাঁদের ভাগ্য আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নির্ধারিত হবে।





