সামনেই লোকসভা নির্বাচন, আর তার আগেই কলকাতা পুরসভার শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য বাজেটের সুর মিলিয়ে মেয়রের বক্তৃতায় বারবার ঘুরে ফিরে এল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর কথা। কিন্তু এই জনমোহিনী প্রকল্পের ডামাডোলের মাঝেই পুরসভার বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘাটতি নিয়ে কড়া তোপ দাগল বিরোধী শিবির।
বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও রাজনীতির রং রাজ্য সরকারের এই টার্মের শেষ বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ মহিলারা এখন ১০০০ টাকার বদলে মাসে পাচ্ছেন ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পাচ্ছেন ১২০০ টাকা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এই প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। মেয়রের লক্ষ্য ছিল রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান দেওয়া, কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ— পুরসভার বাজেটে নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামোর চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে দলীয় প্রচারণা।
বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘাটতি উৎসব এবং সরকারি প্রকল্পের জয়গান থাকলেও বাস্তবের হিসেব বলছে অন্য কথা। কলকাতা পুরসভার চলতি বছরের বাজেটে কয়েকশো কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, যেখানে রাস্তাঘাট সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা এবং জঞ্জাল পরিষ্কারের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলিতে অর্থের টান পড়ছে, সেখানে কেন শুধুই সরকারি প্রকল্পের গুণগান গেয়ে সময় নষ্ট করছেন মেয়র?
বিরোধীদের কড়া প্রতিক্রিয়া বাম এবং বিজেপি কাউন্সিলরদের দাবি, ফিরহাদ হাকিমের দ্বিতীয় টার্মের এই শেষ বাজেটে কলকাতার মানুষের জন্য বিশেষ কোনো দিশা নেই। বিজেপির পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়, “পুরসভার নিজের ভাঁড়ারে টান, অথচ মেয়রের মুখে শুধুই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! মানুষের করের টাকায় কেবল প্রচার চালানো হচ্ছে।” অন্যদিকে বামেদের অভিযোগ, “হিসেবের গরমিল আর ঋণের বোঝায় ডুবে আছে পুরসভা, সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ঢাল করা হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশন ছিল উত্তপ্ত। এখন দেখার, এই ঘাটতি বাজেট শহরবাসীর নাগরিক পরিষেবায় কতটা প্রভাব ফেলে।