আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের অনেক আগেই ঘর গোছাতে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরদের জন্য একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে সাফ জানানো হয়েছে— স্রেফ পদ আঁকড়ে বসে থাকলে চলবে না, মানুষের কাজ না করলে ‘ভবিষ্যৎ’ অন্ধকার। দলীয় নেতৃত্বের এই পদক্ষেপকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে পুরপ্রশাসক মহলে। মূলত আমজনতার অভাব-অভিযোগ শোনা এবং ওয়ার্ড স্তরে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতেই এই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’।
তৃণমূল সূত্রের খবর, আইপ্যাক (I-PAC)-এর রিপোর্ট এবং গোপন সমীক্ষার ভিত্তিতে একাধিক কাউন্সিলরের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক কাউন্সিলরকে নিয়মিত ওয়ার্ডে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে কি না, তা সরাসরি তদারকি করতে হবে। কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে রেয়াত করা হবে না। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “মানুষের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসে মানুষের কাজ না করলে, আগামীতে দলের টিকিট পাওয়া নিশ্চিত নয়।”
এই নির্দেশিকার মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্ব আসলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে। একদিকে যেমন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে তুলে বিরোধী প্রচারের মোকাবিলা করাই মূল লক্ষ্য। কাউন্সিলরদের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে ‘রিপোর্ট কার্ড’, যা আগামী টিকিট বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। ফলে পদ হারানোর ভয়ে এখন থেকেই অনেক কাউন্সিলর সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। ভোটের আগে তৃণমূলের এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।