কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনে এবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতি বছর বাজেট আলোচনার সময় কাউন্সিলরদের মুখে যে বহুভাষিকতার সুর শোনা যেত, এবার তাতে পুরোপুরি দাঁড়ি টানল ঘাসফুল শিবির। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুর-বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় ‘বাংলাই হবে শেষ কথা’। কোনো কাউন্সিলর আর ঝরঝরে ইংরেজি, হিন্দি কিংবা উর্দু শায়েরির মাধ্যমে নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন না।
এতদিন ধরে পুরসভার অধিবেশনে দেখা যেত, কোনো কাউন্সিলর তাঁর বাজেট প্রস্তাব পেশ করছেন ইংরেজিতে, আবার কেউবা উর্দু শায়েরির মাধ্যমে পরিবেশকে কাব্যিক করে তুলছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু বা অবাঙালি অধ্যুষিত ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা হিন্দি বা উর্দুতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। কিন্তু এবার দলের পক্ষ থেকে কড়া ‘হুইপ’ জারি করে জানানো হয়েছে, অধিবেশন কক্ষে শুধুমাত্র বাংলা ভাষাতেই আলোচনা করতে হবে। দলীয় সূত্রের খবর, ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকার হিসেবে বাংলার কৃষ্টি ও ভাষাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
তৃণমূলের এই কড়া নির্দেশিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাউন্সিলরদের অন্দরে শুরু হয়েছে ফিসফাস। যারা বাংলা বলতে খুব একটা অভ্যস্ত নন, তাঁদের জন্য এই নির্দেশ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা পরিষ্কার— বাংলার পুরসভা, বাংলার বাজেট, তাই ভাষাও হতে হবে একমাত্র বাংলা। বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে ‘ভাষাগত আধিপত্য’ হিসেবে দেখলেও, শাসকদল একে দেখছে ভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবে। এখন দেখার, বাজেটের দিন কাউন্সিলররা এই কড়া অনুশাসন কতটা মেনে চলেন।