একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও পুত্রসন্তানের লালসা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক নৃশংস নিদর্শন দেখল দেশ। তিন কন্যাসন্তানের পর ফের এক কন্যাসন্তান জন্মের আশঙ্কায় বা পুত্রসন্তান দিতে না পারার ‘অপরাধে’ নিজের স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করল এক ব্যক্তি। উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ জেলার এই নারকীয় ঘটনায় স্তম্ভিত পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত স্বামী নিজেই রক্তমাখা জামাকাপড় নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মহেশ। তার তিনটে ছোট ছোট মেয়ে রয়েছে। মহেশের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল যে তার কোনো পুত্রসন্তান নেই। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগেই থাকত। স্থানীয়দের দাবি, মহেশ বিশ্বাস করত যে তার স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবেই পুত্রসন্তান জন্ম দিতে পারছেন না। শনিবার রাতে সেই বিবাদ চরমে পৌঁছালে রাগের মাথায় একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর গলা কেটে দেয় সে। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই গোটা ঘটনাটি ঘটেছে দম্পতির তিন নাবালিকা মেয়ের চোখের সামনে।
মায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে খুদে শিশুরা। এদিকে খুনের পর বিন্দুমাত্র অনুশোচনা না দেখিয়ে সোজা থানায় হাজির হয় মহেশ। সেখানে গিয়ে ডিউটি অফিসারের সামনে সে অবলীলায় স্বীকার করে যে সে তার স্ত্রীকে খুন করেছে। পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল যে, আধুনিক যুগেও সমাজের গভীরে পুত্রসন্তানের মোহ এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিষ কতটা গভীরে প্রোথিত। তিন অনাথ শিশুর ভবিষ্যৎ এখন এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে।