ইপিএফও (EPFO) গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একবার পিএফ-এর টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পর তা আর কর্মচারীদের থেকে ফেরত চাওয়া যাবে না। যদি পিএফ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তবে তার দায় সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পিএফ ট্রাস্টের। ইপিএফও কোনোভাবেই কর্মচারীর থেকে টাকা পুনরুদ্ধার করতে পারে না।
ঘটনার সূত্রপাত জেভি নৃপেন্দ্র রাও নামক এক কর্মচারীর পিএফ পাওনা নিয়ে। তাঁর প্রাক্তন কোম্পানি নিজের পিএফ ট্রাস্ট পরিচালনা করত। ট্রাস্টের ছাড়পত্র বাতিল হওয়ার পর যখন ২.৫ কোটি টাকা পিএফ হিসেবে প্রদান করা হয়, তখন ইপিএফও দাবি করে যে, এই প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত ছিল না। এর প্রেক্ষিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ ইপিএফও ওই কর্মচারীকে টাকা ফেরতের নোটিশ পাঠায়। হাইকোর্টে এই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করেন ভুক্তভোগী।
তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের বিচারপতি এই মামলায় কর্মচারীর পক্ষেই রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, পিএফ-এর টাকা কর্মীর আইনি পাওনা। ট্রাস্টের বা কোম্পানির প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য কর্মীকে শাস্তি দেওয়া বা তাঁর থেকে টাকা ফেরত নেওয়া ন্যায়সংগত নয়। এছাড়া, শোকজ নোটিশ না দিয়ে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি রিকভারি নোটিশ পাঠানো আইনত অবৈধ। সুতরাং, ওই রিকভারি নোটিশটি আদালত বাতিল করেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজন হলে ইপিএফও কর্তৃপক্ষ কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট ও ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু কর্মীর ওপর কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা চলবে না। এই রায় ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ পিএফ গ্রাহকদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করবে।





