বসন্তের আমেজ গায়ে মেখে যখন পর্যটকরা পাহাড়ের দিকে পা বাড়াতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে ঘনীভূত হচ্ছে বড়সড় সঙ্কট। গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় রান্নার গ্যাসের (LPG) চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, অনেক হোটেল ও হোম-স্টে মালিকরা এবার ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাবতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বহু পর্যটকের বুকিং বাতিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার কারণে পাহাড়ের ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পৌঁছচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দার্জিলিংয়ের এক হোটেল মালিকের কথায়, “আমাদের কাছে আর মাত্র দু-দিনের গ্যাস মজুদ আছে। নতুন সিলিন্ডার না পেলে পর্যটকদের খাবার দেওয়া সম্ভব হবে না। অগত্যা বুকিং বাতিল করা ছাড়া আমাদের আর কোনও পথ থাকবে না।” অনেক জায়গায় ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁগুলোতে মেনু কাটছাঁট করা শুরু হয়েছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চিন্তায় পড়েছেন সমতল থেকে পাহাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া পর্যটকরা। বিশেষ করে মার্চ মাসের এই ভরা মরসুমে যদি হোটেল পরিষেবা ব্যাহত হয়, তবে পাহাড়ের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে। ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, পাহাড়ি রাস্তায় যানজট ও কোল্ড স্টোরেজ সমস্যার কারণে সিলিন্ডার পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত সিলিন্ডারের অভাবে মেঘলা পাহাড়ের আনাচে-কানাচে এখন রান্নার চিন্তাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।