হিমালয় পাদদেশের দেশ নেপালের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। দীর্ঘদিনের প্রথাগত রাজনৈতিক সমীকরণকে তছনছ করে দিয়ে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো কাঠমান্ডু। নেপালের নতুন এবং সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন বলেন্দ্র শাহ (Balen Shah)। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ তুর্কীর উত্থান কেবল নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় র্যাপার বলেন্দ্র শাহের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। সেই সময় তিনি প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রার্থীদের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে চমক দিয়েছিলেন। এবার সেই একই ধারা বজায় রেখে তিনি পৌঁছে গেলেন দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে। নেপালের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ, বলেন্দ্রর এই জয়কে ‘পুরাতন তন্ত্রের অবসান’ এবং ‘নতুন নেপাল গড়ার কারিগর’ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা অস্থিরতা এবং পুরনো নেতাদের প্রতি জনগণের বিতৃষ্ণাই বলেন্দ্র শাহের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন মনোভাব এবং নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার সাহসী পদক্ষেপগুলো তাঁকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলা। নেপালের এই তরুণ নেতৃত্বের হাত ধরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।