পারমাণবিক স্বপ্নের শেষমেশ পতন? খামেনেইর সাম্রাজ্যে বড়সড় ধস!

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঘাত-প্রতিঘাত আর সংগ্রামের বন্ধুর পথ পেরিয়ে আলি খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার আসনে আসীন হয়েছিলেন। যে মানুষটি একসময় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর ছিলেন, আজ তাঁর পায়ের তলার মাটি ক্রমশ আলগা হয়ে আসছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হওয়ার নেশায় এতটাই বুঁদ হয়ে ছিলেন যে, অভ্যন্তরীণ এই ধস তিনি টেরই পাননি।

ইরানের রাজনীতিতে খামেনেইর উত্থান ছিল নাটকীয়। আয়াতুল্লাহ খোমেইনির উত্তরসূরি হিসেবে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন তাঁর সামনে ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দেশ। কিন্তু নিজের কট্টরপন্থী মনোভাব এবং সামরিক শক্তিকে অকুতোভয় করে তোলার কৌশলে তিনি ইরানের শাসন ব্যবস্থাকে লোহার খাঁচায় বন্দি করেন। খামেনেইর শাসনামলে ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যার লক্ষ্য ছিল পশ্চিমাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা। কিন্তু এই ‘নিউক্লিয়ার ড্রিমে’র আড়ালে সাধারণ ইরানিদের ক্ষোভ আর অর্থনৈতিক হাহাকার যে চরম আকার ধারণ করেছে, তা শাসকগোষ্ঠী অবজ্ঞা করে গেছে।

বর্তমানে ইরানের রাজপথ উত্তাল। একদিকে হিজাব বিরোধী আন্দোলন এবং অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে খামেনেইর শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট বলছে, খামেনেইর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলেও এখন ফাটল ধরেছে। বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রুই এখন তাঁর শাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া দিয়ে বিশ্বকে চমকে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক তখনই ভেতর থেকে ঘুণে ধরা কাঠামোর মতো ভেঙে পড়ছে ইরানের প্রশাসনিক দাপট। খামেনেই কি পারবেন এই পতন রুখতে, নাকি পারমাণবিক স্বপ্নের ধ্বংসস্তূপেই চাপা পড়বে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজত্ব?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy