আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডি-র তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিত হওয়া এবং ‘সবুজ ফাইল’ বের করে আনা নিয়ে এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করলেন, “মমতার পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, জনগণ এবার যোগ্য জবাব দেবে।”
“অসাংবিধানিক ও লজ্জাজনক”
আইপ্যাক অফিসে মুখ্যমন্ত্রীর আচরণের তীব্র নিন্দা করে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এমন নজির নেই যেখানে একজন মুখ্যমন্ত্রী একটি প্রাইভেট সংস্থায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির রেড চলাকালীন ঢুকে পড়ে আধিকারিকদের হুমকি দেন এবং কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে আসেন।” তাঁর প্রশ্ন, একজন ১৪ বছরের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে কীভাবে তিনি গণতান্ত্রিক ও আইনি ব্যবস্থাকে এভাবে ভুলুণ্ঠিত করলেন?
লালু-মমতা তুলনা ও ‘গোপন রহস্য’
এদিন বিহারের জমির বিনিময়ে চাকরি মামলায় লালুপ্রসাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের প্রসঙ্গ টেনে রবিশঙ্কর কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আজ লালুজির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে, কিন্তু তিনিও কোনোদিন সিবিআই বা ইডি দপ্তরে গিয়ে রেড করার কথা ভাবেননি। মমতাজি কামাল করে দিলেন! ম্যাডাম, আপনার সঙ্গে ওই সংস্থার এমন কী লিঙ্ক যে আপনি এত ঘাবড়ে যাচ্ছেন? ওই ফাইলে কি কোনো বড় রহস্য লুকোনো আছে?”
পুরনো ইতিহাস মনে করালেন রবিশঙ্কর
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা বলেন:
-
সারদা কাণ্ড: পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে বাঁচাতে যেভাবে মমতা ধরনায় বসেছিলেন, তা দেশ দেখেছে।
-
সন্দেশখালি: মূল অভিযুক্তকে বাঁচাতেও রাজ্য প্রশাসনকে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন তিনি।
-
দুর্নীতির তালিকা: রেশন দুর্নীতি থেকে গরু পাচার এবং নিয়োগ দুর্নীতি— প্রতি ক্ষেত্রেই তৃণমূলের ‘ফুটপ্রিন্ট’ রয়েছে বলে দাবি তাঁর।
রবিশঙ্কর প্রসাদের সাফ কথা, ইডি-র কাজে বাধা দেওয়া একটি আইনি অপরাধ। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের এই আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আইপ্যাক ইস্যুটিকে তারা জাতীয় স্তরে পৌঁছে দিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে।