পাঞ্জাবের অমৃতসর এবং জলন্ধরে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আনল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। তদন্তকারীদের দাবি, এই জোড়া বিস্ফোরণের নেপথ্যে সরাসরি হাত রয়েছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর (ISI)। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে বসে থাকা আইএসআই হ্যান্ডলারদের নির্দেশেই অমৃতসর এবং জলন্ধরের স্পর্শকাতর এলাকায় এই নাশকতামূলক কাজ চালানো হয়েছে। তবে সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো এই হামলার সময় বা ‘টাইমিং’।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই বিস্ফোরণগুলো ঘটানো হয়েছে ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor)-এর বর্ষপূর্তির ঠিক কয়েক দিন আগে। উল্লেখ্য, ৭ মে পহেলগাম হামলার বদলা নিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করতে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালিয়েছিল। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীরা যাতে সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে না পারে এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই পাঞ্জাবে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটানো হয়েছে। এনআইএ-র সন্দেহ, পাকিস্তান এই বার্তার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছে যে তারা ভারতের অভ্যন্তরে আঘাত হানার ক্ষমতা এখনও হারায়নি।
তদন্তে আরও এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের হদিস মিলেছে। আইএসআই এখন পাঞ্জাবে মৃতপ্রায় খলিস্তানি আন্দোলনকে পুনরায় অক্সিজেন দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা পাঞ্জাবের স্থানীয় উগ্রপন্থী মানসিকতার যুবকদের মগজ ধোলাই করে তাদের এই মারণ খেলায় শামিল করছে। লক্ষ্য হলো, নিয়মিত ব্যবধানে রাজ্যে স্বল্প-তীব্রতার (Low-Intensity) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা। বর্তমানে পাঞ্জাব পুলিশ ও এনআইএ-র রাডারে এমন বহু সন্দেহভাজন যুবক রয়েছে যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
আইএসআই-এর এই নতুন কৌশলে সবথেকে চিন্তার কারণ হলো ‘লোকাল সেল’ (Local Cells) গঠন। অপরাধ জগতের সঙ্গে আগে কোনো যোগ না থাকা নতুন মুখদের নিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে পুলিশের নজরদারি এড়ানো যায়। নিয়ম অনুযায়ী, একবার হামলা চালানোর পর এই যুবকরা দীর্ঘদিন আন্ডারগ্রাউন্ড বা আত্মগোপন করে থাকে, যাকে গোয়েন্দা ভাষায় ‘কুলিং পিরিয়ড’ বলা হয়। এই বিরতি শেষ হলে তাদের পরবর্তী লক্ষ্য দেওয়া হয়। জানা গেছে, গোটা পাঞ্জাব জুড়ে এমন অন্তত ১০০ জন যুবককে নিয়োগের টার্গেট নিয়েছে আইএসআই।
কেন হঠাৎ বড় হামলার বদলে ছোট বিস্ফোরণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত রণকৌশল। বড় হামলায় গোলাবারুদ বেশি লাগে এবং ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো সহজ এবং এর হদিস পাওয়া কঠিন। সম্প্রতি পাতিয়ালা পুলিশ রেললাইন উড়িয়ে দেওয়ার এমন এক ছক বানচাল করে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। এনআইএ এখন এই বিশাল নেটওয়ার্কের প্রতিটি যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। পাঞ্জাবকে অস্থির করার এই পাকিস্তানি চক্রান্ত রুখতে এখন হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে সীমান্তজুড়ে।





