শনিবার মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদের সুরক্ষিত ‘রেড জোন’-এ অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কয়েক হাজার উন্মত্ত বিক্ষোভকারী হামলা চালায়। দূতাবাস চত্বরে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিয়ে বিশাল মিছিল দূতাবাসের দিকে এগোতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। উত্তেজিত জনতা দূতাবাসের বেশ কিছু যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হলেও পরে সরাসরি গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূতাবাসের নিরাপত্তা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। তবে করাচি, লাহোর এবং কোয়েটাতেও একই রকম বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। ইরানপন্থি সংগঠনগুলো এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, খামেনেইর রক্তের বদলা নিতে মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হবে। এই ঘটনার পর পাকিস্তানে অবস্থিত সমস্ত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।