পাক-চিন সীমান্তে এবার ‘বিরূপাক্ষ’-এর নজর! সুপার সুখোই-তে বসছে ভারতের নিজস্ব রাডার, কার্যত অজেয় বায়ুসেনা

ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশসীমা রক্ষার প্রধান স্তম্ভ সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI)-কে ‘সুপার সুখোই’ (Super Sukhoi) স্তরে উন্নীত করার পথে সবথেকে বড় মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। ডিআরডিও (DRDO) এবং হ্যাল (HAL)-এর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির ‘বিরূপাক্ষ’ এসা (AESA) রাডার এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। এটি বর্তমানে সুখোই-তে থাকা রাশিয়ান ‘বার্স’ (Bars) রাডারের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী এবং আধুনিক।

কী এই ‘বিরূপাক্ষ’ রাডার? সংস্কৃত শব্দ ‘বিরূপাক্ষ’-এর অর্থ হলো ‘শিবের তৃতীয় নয়ন’ বা ‘বিবিধ অক্ষি’। এই রাডারটির ক্ষমতা এতটাই যে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে বায়ুসেনার জন্য ‘মিনি-অ্যাওয়াক্স’ (Mini-AWACS)-এর মতো কাজ করবে।

  • বিশাল এলাকা নজরদারি: এটি ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম।

  • একসাথে একাধিক টার্গেট: বিরূপাক্ষ রাডার একসাথে ৬০ থেকে ১০০টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং একসাথে ৬টি শত্রু বিমানে মিসাইল গাইড করতে পারে।

  • গ্যালিয়াম নাইট্রাইড (GaN) প্রযুক্তি: এই রাডারে অত্যাধুনিক গ্যালিয়াম নাইট্রাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাডারটিকে ছোট অথচ অধিক শক্তিশালী ও ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

কেন এই আপগ্রেড জরুরি ছিল? সুখোই-এর বর্তমান রাশিয়ান রাডারটি প্যাসিভ (PESA) প্রযুক্তির, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিল। বিশেষ করে চিনের জে-২০ (J-20) স্টিলথ ফাইটার বা পাকিস্তানের এফ-১৬-এর মোকাবিলায় আরও দ্রুত এবং নির্ভুল নজরদারির প্রয়োজন ছিল। বিরূপাক্ষ রাডার যুক্ত হওয়ার ফলে সুখোই এখন ‘ফার্স্ট লুক, ফার্স্ট শট’ (First Look, First Shot) সুবিধা পাবে।

আত্মনির্ভর ভারতের জয়: ৮৪টি সুখোই-৩০ এমকেআই-কে প্রথম দফায় ‘সুপার সুখোই’ বানানো হচ্ছে। এই প্রজেক্টের খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫,০০০ কোটি টাকা। রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত এখন নিজেই নিজের যুদ্ধবিমানের ইলেকট্রনিক্স ও রাডার তৈরি করছে, যা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় জয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy