সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (Power of Attorney – POA) নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই চরম বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, কোনো বন্ধু বা আত্মীয়কে এই আইনি দলিল দেওয়া মানেই সম্পত্তির মালিকানা তার হাতে তুলে দেওয়া হলো বা আসল মালিকের অধিকার শেষ হয়ে গেল। তবে আইনি বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি হলো একটি আইনি নথি, যা একজন ব্যক্তিকে সম্পত্তির মালিকের পক্ষে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করার ক্ষমতা দেয়। যেমন, সম্পত্তি বিক্রয় বা রেজিস্ট্রি করা, ভাড়া সংগ্রহ করা অথবা ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরিচালনা করা। কিন্তু এই দলিল কখনোই নিযুক্ত ব্যক্তিকে মালিকানা হস্তান্তর করে না।
মালিকানা নয়, কেবলই কর্তৃত্ব
কাউকে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়ার অর্থ হলো, তিনি মালিকের পক্ষে আইনি কাজগুলি করতে পারবেন, তবে তিনি সম্পত্তির মালিক হবেন না। সম্পত্তির মালিকানা শুধুমাত্র একটি নিবন্ধিত বিক্রয় দলিল (Registered Sale Deed) বা উপহার দলিলের (Gift Deed) মাধ্যমেই হস্তান্তরিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
২০১১ সালে এই বিষয়ে চূড়ান্ত স্পষ্টতা এনেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত রায় দেয় যে, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে কেউ কোনো সম্পত্তির মালিক হতে পারে না। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, এটি কেবলই একটি ‘কর্তৃত্বের দলিল’ (Authority Document) যা মালিকানা প্রদান না করে শুধুমাত্র সীমিত অধিকার দেয়।
কখন পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি উপযোগী?
এই দলিলটি তখনই খুব কার্যকর হয় যখন সম্পত্তির মালিক অন্য শহরে বা বিদেশে থাকেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজগুলি পরিচালনা করতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বাইতে সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও যিনি দিল্লিতে থাকেন, তিনি একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে এই দলিলের মাধ্যমে তাঁর পক্ষে কাজ করার ক্ষমতা দিতে পারেন।
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রদানের সময় মনে রাখবেন
এই দলিল দেওয়ার সময় এটি নিবন্ধিত (Registered) কিনা, তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঠিক কোন কোন কাজগুলি করতে পারবেন, তা দলিলে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি বিরোধ তৈরি না হয়।