রাশিয়ার সামরিক শক্তি এখন এক অনন্য উচ্চতায়। মঙ্গলবার ক্রেমলিন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভের রিপোর্ট পাওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। রাশিয়ার নবতম সংযোজন ‘সার্মাত’ (Sarmat) ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমকে তিনি ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুতিনের মতে, এটি রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতার এমন এক স্তম্ভ, যার কোনো সমকক্ষ বর্তমানে বিশ্বে নেই।
পুতিন এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রতিরক্ষা কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সার্মাত মিসাইল সিস্টেমের পেলোড বা আঘাত হানার ক্ষমতা যেকোনো পশ্চিমা মিসাইলের চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এর পাল্লাও অবিশ্বাস্য; এটি কেবল সাধারণ ব্যালিস্টিক পথেই নয়, সাব-অরবিটাল পথেও চলতে সক্ষম, যা এর কার্যকরী পাল্লা ৩৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়। এর অর্থ হলো, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত এখন রাশিয়ার নিশানায়।
এই অস্ত্র তৈরির নেপথ্যে আমেরিকার ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন বলেন, ২০০২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল (ABM) চুক্তি থেকে সরে আসে, তখন মস্কো নিজের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করতে “বাধ্য” হয়েছিল। রাশিয়ার অস্তিত্ব রক্ষার্থেই এমন প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে যা বর্তমান বা ভবিষ্যতের যেকোনো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে অনায়াসেই ভেদ করতে পারবে। এটি সোভিয়েত যুগের বিখ্যাত ‘ভয়েভোদা’ সিস্টেমের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি উন্নত।
সার্মাত ছাড়াও রাশিয়ার হাতে এখন রয়েছে অ্যাভানগার্ড হাইপারসনিক মিসাইল, কিনঝাল এয়ার-লঞ্চড মিসাইল, ওরেশনিক মিডিয়াম-রেঞ্জ মিসাইল এবং পোসাইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এছাড়াও ক্ষুদ্র পারমাণবিক ইউনিটে চালিত বুরেভেস্টনিক গ্লোবাল-রেঞ্জ ক্রুজ মিসাইলের কাজ প্রায় শেষের দিকে। পুতিন ঘোষণা করেছেন, এই বছরের শেষ নাগাদ সার্মাত সিস্টেমকে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হবে। রাশিয়ার এই ‘সুপার ওয়েপন’ এখন ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলস— সর্বত্রই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





