উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটাল রাজ্য সরকার। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে। তাঁর জায়গায় নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বর্তমান উপ-সচিব পার্থ কর্মকার। আগামী সোমবার, ২ মার্চ থেকে তিনি নতুন পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এখন থেকে শুধুমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের দায়িত্ব সামলাবেন।
সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমিস্টারের অঙ্ক পরীক্ষায় সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই অস্বস্তি ঢাকতে সংসদকে বিবৃতি দিয়ে জানাতে হয়েছিল যে, বিতর্কিত ৩টি অঙ্ক যারা ছোঁয়ার চেষ্টা করেছে, তারা সবাই পূর্ণ মান (১০ নম্বর) পাবে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ক্লাস না হওয়া এবং সময়মতো পড়ুয়াদের হাতে বই না পৌঁছনো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। সংসদ সভাপতির ‘ইউটিউব ভিডিও দেখে পড়ার’ পরামর্শও বিতর্ক বাড়িয়েছিল।
সরকারিভাবে এই অপসারণের কোনো নির্দিষ্ট কারণ দর্শানো না হলেও, শিক্ষামহলের ধারণা—পরীক্ষা পরিচালনায় একাধিক ত্রুটি এবং প্রশ্নপত্র নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজাই চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের বিদায় ত্বরান্বিত করেছে। ভোটের জন্য তাড়াহুড়ো করে পরীক্ষা এগিয়ে আনা এবং প্রস্তুতির অভাব নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলিও পার্থ কর্মকারের আগমনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।