অবশেষে পুলিশের জালে ধরা দিলেন কসবার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজি ও আর্থিক প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর, বুধবার ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। সূত্রের খবর, পুলিশি নজরদারি এড়াতে সপরিবারে পুরীতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন এই বিতর্কিত নেতা।
কী অভিযোগ সুশান্তের বিরুদ্ধে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবার প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। প্রধান অভিযোগগুলি হলো:
বিশাল অঙ্কের তোলাবাজি: রুবি মোড় থেকে বহুতল আবাসন ‘আরবানা’ পর্যন্ত রাস্তার ধারের দোকানদারদের থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে সুশান্ত ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে।
ফুটপাথ বিক্রি: জাল নথি তৈরি করে ফুটপাথের ওপর অবৈধ দোকান তৈরি করে তা সাধারণ মানুষের কাছে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
একাধিক মামলা: আনন্দপুর থানায় একের পর এক আর্থিক প্রতারণার মামলা দায়ের হওয়ায় চাপ বাড়ে পুলিশের ওপর। শেষ পর্যন্ত তদন্তের ভার লালবাজারের ‘অ্যান্টি ফ্রড সেকশন’-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কীভাবে ধরা পড়লেন? এই মামলার তদন্তে নেমে আগেই পুলিশ সুশান্তের ‘ডান হাত’ সুজিত ওরফে বচ্চন এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি চালককে গ্রেফতার করেছিল। তাদের জেরা করেই গোয়েন্দারা সুশান্ত ঘোষের ওড়িশায় গা ঢাকা দেওয়ার খবর পান। কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল পুরীতে পৌঁছায় এবং গোপন ডেরায় হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
বর্তমানে সুশান্ত ঘোষকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁকে জেরা করে এই তোলাবাজি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় সরিয়ে রাখা হয়েছে, তা জানাই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য।





