পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ঘর ছেড়েছেন স্ত্রী, অথচ প্রতি মাসে তাঁর ভরণপোষণের জন্য ১৫ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে স্বামীকে। শুধু তাই নয়, সঙ্গে জুটেছে দুই নাবালক সন্তানের দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব। এমনই এক অদ্ভুত এবং বিতর্কিত আইনি লড়াইয়ের খবর সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আধুনিক দাম্পত্য কলহ এবং খোরপোশ সংক্রান্ত আইনের মারপ্যাঁচে পিষ্ট এক সাধারণ মানুষের এই কাহিনী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
অভিযোগকারী স্বামীর দাবি, তাঁর স্ত্রী অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত এবং বর্তমানে তিনি তাঁর প্রেমিকের সঙ্গেই বসবাস করছেন। সংসার ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণার মাঝেই আদালতের নির্দেশে তিনি কার্যত দিশেহারা। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিবাহবিচ্ছেদ বা আলাদা থাকার কারণ যাই হোক না কেন, স্ত্রীর জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই খোরপোশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। স্বামীর পাল্টা প্রশ্ন, “যে স্ত্রী নিজের ইচ্ছেয় পরকীয়া করে ঘর ছেড়েছেন, তাঁর দায়িত্ব কেন আমাকে নিতে হবে?”
আইনজীবীদের একাংশের মতে, ভারতীয় আইনে খোরপোশের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়া প্রমাণিত হলেও মানবিক খাতিরে বা সন্তানদের ভরণপোষণের স্বার্থে আদালত এই ধরনের রায় দিয়ে থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট মামলাটি পুরুষ অধিকার কর্মীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে দুই সন্তানের পড়াশোনা ও বড় করার খরচ, অন্যদিকে স্ত্রীকে মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া—সব মিলিয়ে মধ্যবিত্ত স্বামীর পকেটে টান পড়েছে মারাত্মকভাবে। ন্যায়বিচারের আশায় এখন উচ্চতর আদালতের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি।