মাঠের লড়াই হোক বা বিধানসভার তপ্ত বিতর্ক— তাঁর গলার স্বর আর আত্মবিশ্বাস সবসময়ই নজরকাড়া। শুভেন্দু অধিকারী আজ পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধানের চেয়ারে আসীন। কিন্তু রাজনীতির এই পোড়খাওয়া নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল কম নয়। তিনি কেবল একজন দক্ষ সংগঠকই নন, বরং ছাত্রজীবনেও তাঁর একটা অন্য পরিচয় ছিল। ঠিক কতদূর পড়াশোনা করেছেন অধিকারীদের ‘মেজো ছেলে’?
শৈশব ও স্কুল জীবনের শুরু শুভেন্দু অধিকারীর জন্ম ১৯৭০ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের এক রাজনৈতিক পরিবারে। তবে রাজনীতির পরিবেশে বড় হয়েও তাঁর পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো খামতি ছিল না। কাঁথির সেন্ট্রাল স্কুলের মেধাবী ছাত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ছোট থেকেই পড়াশোনায় তাঁর গভীর মনোযোগ ছিল বলে শোনা যায় তাঁর পরিচিত মহলে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন তিনি।
উচ্চশিক্ষা ও কলেজের দিনগুলো স্কুলের পাঠ চুকিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পা বাড়িয়েছিলেন কলকাতার দিকে নয়, বরং নিজের জেলাতেই। কাঁথির প্রভাত কুমার কলেজ (P.K. College) থেকে তিনি স্নাতক স্তর সম্পন্ন করেন। সেখানে পড়াশোনা করার সময়ই তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী ফুটে উঠতে শুরু করে। কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তীকালে তিনি স্নাতকোত্তর (Post Graduate) ডিগ্রিও অর্জন করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা সমাজবিদ্যার মতো বিষয়গুলিতে তাঁর বরাবরই বিশেষ আগ্রহ ছিল।
রাজনীতি ও শিক্ষার মেলবন্ধন অনেকেরই হয়তো অজানা যে, শুভেন্দু অধিকারী একজন পেশাদার শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনীতির আঙিনায় পা রাখার আগে তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর বাচনভঙ্গি এবং বিষয়বস্তুর ওপর অগাধ দখল দেখে অনুগামীরা প্রায়ই বলেন যে, ‘মাস্টারমশাই’ ইমেজটি তাঁর রক্তে মিশে আছে। প্রশাসনিক কাজে তাঁর সূক্ষ্ম বিচারবোধের নেপথ্যে এই উচ্চশিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য।
আজ যখন তিনি নবান্নের মসনদে বসে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন, তখন তাঁর এই শিক্ষাগত মানচিত্রটি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। পুঁথিগত বিদ্যা আর বাস্তব রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করেই এবার বাংলার ভাগ্য ফেরাতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।





