পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে সরকারি ত্রাণ-ভাণ্ডার! ডায়মন্ড হারবারে উদ্ধার পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল

পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের সরিষা অঞ্চলে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সরিষার কামারপোল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মইদুল ইসলামের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রধানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে সরকারি ত্রিপল, শিশুখাদ্য, কম্বল, পোশাক এবং প্রচুর জীবনদায়ী ওষুধ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শনিবার গভীর রাতে গ্রামবাসীরা গোপন সূত্রে জানতে পারেন যে, পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছে। এরপরই গ্রামবাসীরা সংঘবদ্ধভাবে প্রধানের বাড়িতে হানা দেন। অভিযোগ, বাড়ির বিভিন্ন ঘর তল্লাশি করে কয়েক হাজার ত্রিপল, শিশুদের খাদ্যসামগ্রী এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের লোগোযুক্ত প্রচুর ওষুধ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার সবচেয়ে বিস্ফোরক দিকটি সামনে আসে যখন ওই বাড়ি থেকে পুলিশের ব্যবহৃত বিশেষ পোশাক এবং বন্দুকের গুলির খোল ও বাক্স উদ্ধার করা হয়। এই সামগ্রীগুলো উদ্ধারের পর এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ডায়মন্ড হারবার থানা এবং পারুলিয়া কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সমস্ত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। সরকারিভাবে প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও কোনো বিশদ বিবৃতি না পাওয়া গেলেও, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস এবং প্রধানের বাড়িতে কীভাবে পুলিশের পোশাক ও গুলির খোল পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অভিযুক্ত মইদুল ইসলাম এলাকা ছাড়া। তাঁর এই অনুপস্থিতি এবং বাড়িতে মজুত সরকারি সামগ্রী প্রমাণ করছে যে, দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের প্রাপ্য ত্রাণ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল।

এই ঘটনায় ডায়মন্ড হারবার বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি উত্তম বাগ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “তৃণমূল নেতারা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সমস্ত কিছু লুঠ করেছে। প্রধানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে এলাকায় তোলাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হত। গুলির বাক্স উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে।” বিজেপির দাবি, শিশুখাদ্য ও ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী যারা মজুত করে রাখে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী এবং আইনি নথিপত্র পুলিশের তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এখন এই দুর্নীতির কঠোর বিচার চাইছেন। প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরই এই ঘটনার ভবিষ্যৎ মোড় নির্ভর করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy