আসন্ন নির্বাচনের আগে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। এবার সরাসরি পুরসভার কর্মী ও আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO North) স্মিতা পাণ্ডে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের কাজে কোনো প্রকার শিথিলতা বা নিয়মভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে ছয়টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যদি কোনো আধিকারিক বা কর্মীর বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোরতম আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
স্মিতা পাণ্ডে স্পষ্ট করেছেন যে, স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় রাখা কমিশনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে থেকেই প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি তুঙ্গে রাখা হচ্ছে। ডিইও উত্তর জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজ থেকে শুরু করে বুথ ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং ডিউটি রোস্টার পালনের ক্ষেত্রে কোনো রকম টালবাহানা সহ্য করা হবে না।
প্রশাসন সূত্রের খবর, এই ‘ছয়টি ঘটনা’ বা ক্ষেত্রকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার কার্ড বিতরণে কারচুপি, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গোপন আঁতাত, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করা। নির্বাচনী আধিকারিকের এই চরম হুঁশিয়ারির পর স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরসভার অন্দরে। কর্মীদের একাংশের মতে, এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভুলভ্রান্তির কোনো জায়গা নেই। সামান্য ভুলেই হারাতে হতে পারে চাকরি, এমনকি হতে পারে জেলও। স্মিতা পাণ্ডের এই কড়া অবস্থান বার্তা দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে নিরপেক্ষতাই হবে শেষ কথা।