নির্বাচন কমিশন না কি বিজেপির হাতের পুতুল? রামনবমীর হিংসায় দিল্লির বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা মমতার!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। আর এই হিংসার ঘটনায় সরাসরি বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে এক শ্রেণির আধিকারিকদের বসিয়ে রাখা হয়েছে, যাঁরা অশান্তি রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

দুই ‘শয়তান’ ও ক্ষমতার লড়াই: শনিবার নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘দুই শয়তান’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, “নির্বাচন কমিশনের আড়ালে ওই দুই শয়তান আমার পুলিশ-প্রশাসনের হাত বেঁধে রেখেছে। আমাকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে এখন বাংলার নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে।”

কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন: রঘুনাথগঞ্জের অশান্তি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বারবার সাবধান করেছিলাম যে রামনবমীর দিন বিজেপি দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমার কথা শোনেনি। তারা আমার দক্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়েছে। আজ মুর্শিদাবাদে যে রক্ত ঝরল, তার দায় সম্পূর্ণ কমিশনের।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন অশান্তিপ্রবণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী বা বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।

বিজেপির পাল্টা তোপ: মমতার এই আক্রমণের পাল্টা দিয়েছে বিজেপিও। দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারদের দাবি, তৃণমূল হার নিশ্চিত জেনেই এখন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তাঁদের মতে, তোষণের রাজনীতির কারণেই মুর্শিদাবাদে বারেবারে অশান্তি ঘটছে।

ভোটের আগে টানটান উত্তেজনা: মুর্শিদাবাদের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে রাজভবন। এদিকে মমতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ভোটের সময় ক্ষমতা কাড়লেও, ভোটের পর আমিই থাকব। তখন সব হিসেব বুঝে নেব।” রঘুনাথগঞ্জের এই আঁচ যে আগামী দফার ভোটগুলোতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy