২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই চড়ছে বাংলার রাজনীতির পারদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ‘এক্স’ (টুইটার) পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হলো শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, কমিশন যেভাবে একের পর এক পুলিশ কর্তা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করছে, তা আসলে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই ময়দানে নামেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা। মমতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “নিজের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী এখন রাষ্ট্রপতি শাসনের অজুহাত খাড়া করছেন। গত কয়েক বছরে বাংলায় যে নৈরাজ্য চলেছে, তাতে বহু আগেই ৩৫৬ ধারা জারি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বিজেপি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে বিশ্বাসী, তাই ব্যালট বক্সেই তৃণমূলের বিসর্জন হবে।”
রাজু বিস্তা আরও দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে নির্বাচন কমিশনকে ভয় দেখাচ্ছেন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট না হয়। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশনের কড়া নজরদারিতে ভোট হলে তৃণমূলের ‘ভোট লুঠের’ কারসাজি ধরা পড়ে যাবে, আর সেই ভয়েই এখন কান্নাকাটি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, নির্বাচন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতি শাসন বনাম গণতান্ত্রিক অধিকারের এই লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি।