রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক বড়সড় আইনি বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নির্বাচনী প্রচারে জনসমক্ষে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে দায়ের হলো নতুন এফআইআর (FIR)। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।
অভিযোগকারী আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন মমতা ব্যানার্জি এমন কিছু বক্তব্য রেখেছেন যা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াতে পারে এবং জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আইনের ভাষায় যা ‘উস্কানিমূলক’ বা ‘হেট স্পিচ’ হিসেবে গণ্য হয়। আইনজীবী তাঁর অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একজন জননেত্রী হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে এই ধরনের মন্তব্য সংবিধানের পরিপন্থী এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিংস ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সহ সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সাইবার ক্রাইম থানা অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই এফআইআর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে দলীয় সূত্রে খবর, এই পুরো ঘটনাটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দেখছেন তারা। বিরোধীদের দাবি, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের ধরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিভিন্ন মহল, আর এই এফআইআর তারই আইনি বহিঃপ্রকাশ।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী মরসুমে রাজনৈতিক নেতাদের বাক-সংযম নিয়ে আগেও একাধিকবার সরব হয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ায় মমতা ব্যানার্জির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আইনের মারপ্যাঁচে তিনি কীভাবে এই বিতর্ক মোকাবিলা করেন, তা নিয়ে কৌতুহলী রাজ্যবাসী। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি অভিযোগটি প্রমাণিত হয়, তবে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে পুলিশ। সব মিলিয়ে, এক নতুন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল পড়ে গেছে।





