নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত এবং স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট (SIR) ইস্যু নিয়ে উত্তাল বাংলার রাজনীতি। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। বৃহস্পতিবার কোচবিহারে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিশীথ সাফ জানান, মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পকেটে পুরতে চাইছেন বলেই এই সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নিশীথ প্রামাণিকের অভিযোগ, যখনই নির্বাচন কমিশন বা কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করে, তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন নির্বাচন কমিশন তাঁর ইশারা অনুযায়ী চলুক। কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক দলের কেনা গোলাম নয়। এসআইআর ইস্যুতে সত্য ধামাচাপা দিতেই তিনি কমিশনের সঙ্গে বিবাদে জড়াচ্ছেন।” নিশীথের দাবি, প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনে কারচুপি করার পথ যখনই রুদ্ধ হয়, তখনই তৃণমূল নেত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ আরও যোগ করেন যে, স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টের সত্যতা সামনে এলে তৃণমূলের অনেক গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে, আর সেই ভয়েই নবান্ন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসলে ভয় পেয়েছেন। তাই তিনি কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করছেন। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে চরম লজ্জাজনক।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর আগে কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গে নিজেদের জমি শক্ত করতে নিশীথ প্রামাণিক যে পুনরায় আক্রমণাত্মক মেজাজে ফিরছেন, এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত। একদিকে কমিশনের কড়া নজরদারি, অন্যদিকে বিজেপির এই ‘চৌকিদার’ মেজাজ—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন তুঙ্গে। নিশীথের এই আক্রমণের জবাবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার।