নদিয়া জেলার নবদ্বীপ থানার স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের রেল কলোনি এলাকায় এক মর্মান্তিক অথচ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পঞ্চায়েত সদস্যের আত্মীয়ের বাড়ির শৌচালয়ের কাছ থেকে এক সদ্যোজাত শিশুপুত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, সারারাত ধরে বেশ কয়েকটি পথকুকুর সেই সদ্যোজাতকে পাহারা দিয়ে আগলে রাখে, ফলে তার কোনও ক্ষতি হয়নি।
যেভাবে উদ্ধার হল শিশুটি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর থেকেই ওই এলাকায় একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। সকালে ফুল তুলে বাড়ি ফেরার পথে রাধা ভৌমিক নামে এক মহিলা তাঁর বাড়ির বাথরুমের কাছে শিশুটিকে দেখতে পান। সদ্যোজাতটির সারা গায়ে রক্ত লেগে ছিল।
উদ্ধার ও চিকিৎসা: আতঙ্কিত রাধা ভৌমিক পরিবারের বাকি লোকজনের সহায়তায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করেন। প্রথমে মহেশগঞ্জ প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
শিশুর অবস্থা: পঞ্চায়েত সদস্য নির্মল ভৌমিক জানান, হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে যে শিশুটির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই এবং বর্তমানে সে সুস্থ আছে। তার বয়স খুব সম্ভবত একদিন হবে।
পথকুকুরদের মানবিকতা
এলাকাবাসী অঞ্জনা ভৌমিকের কথায় এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি উঠে আসে। তিনি বলেন, “আমরা চেঁচামেচি শুনে এসে দেখি, বাচ্চাটি বাথরুমে পড়ে রয়েছে। পাশেই প্রতিদিনের মতোই কয়েকটি পথকুকুর শুয়ে ছিল। বাথরুমের দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও তারা সদ্যোজাতটির উপর আক্রমণ করেনি, বরং পাহারা দিয়েছে।”
পুলিশের তদন্ত শুরু
নদিয়া জেলা পুলিশ সুপার কে অমরনাথ জানিয়েছেন, “শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। কে ওই বাচ্চাটিকে ওখানে ফেলে গেল, তার তদন্তও শুরু হয়েছে।”
নবদ্বীপ থানার পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছে এবং সদ্যোজাতটির পরিচয় ও ঠিকানা জানার চেষ্টা করছে। শিশুটিকে উদ্ধার করার পর চাইল্ড লাইনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই নির্মম কাজ করা অভিযুক্তকে কঠিনতম শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।