২৯ এপ্রিল মহানগরী ও শহরতলির হাই-ভোল্টেজ ভোটের আগে রণসজ্জা সম্পূর্ণ করল লালবাজার। রবিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে বসেছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। কলকাতার ২ জন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকদের নিয়ে হওয়া এই বৈঠকে দ্বিতীয় দফার ভোটের সুরক্ষাবলয় নিয়ে চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।
পুলিশের হাতে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট বুকলেট’
এবারের ভোটে যাতে বিন্দুমাত্র বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, তার জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে লালবাজার। ময়দানে নামার আগে প্রতিটি পুলিশ কর্মী ও আধিকারিককে একটি করে ‘পুলিশ অ্যারেঞ্জমেন্ট বুকলেট’ দেওয়া হয়েছে। এতে নিরাপত্তার যাবতীয় নির্দেশিকা, কার কী দায়িত্ব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ঠিক কী করতে হবে—তার বিস্তারিত রুটম্যাপ দেওয়া রয়েছে।
সিআরপিএফ-এর বিশেষ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’
পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) ভূমিকা হবে অত্যন্ত সক্রিয়।
মোতায়েন: স্পর্শকাতর বুথগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী থাকবে।
হস্তক্ষেপ: কোনো অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই যাতে সিআরপিএফ সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে, তার জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমন্বয়: সিভিল সেক্টর অফিসার ও পুলিশ অবজারভারদের মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে বাইক টহল
নির্বাচন কমিশন বাইক মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও কলকাতা হাইকোর্ট তাতে কিছু পরিবর্তন এনেছে। পুলিশ কমিশনার জানান, আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তবে বাইক নিয়ে আইনভঙ্গ বা দাদাগিরি করলে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।
ধনধান্য থেকে কড়া বার্তা
বৈঠকে জেনারেল ও স্পেশ্যাল অবজারভারদের উপস্থিতিতে পুলিশ কমিশনার জানান, শহর ও সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে। সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি থাকবে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং মোবাইল প্যাট্রোলিং। ভোটারদের আশ্বস্ত করে কমিশনার বলেন, “নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুন, নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনের।”
নির্বাচন কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং পুলিশের এই আঁটোসাটো প্রস্তুতি দ্বিতীয় দফার ভোটকে কতটা শান্তিপূর্ণ রাখতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





