নিজের প্রস্রাবই ‘সঞ্জীবনী সুধা’! অদ্ভুত অভ্যাসে বিশ্বকে চমকে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার মহিলা

কুইন্সল্যান্ডের বাসিন্দা লুসি অরা দাবি করেছেন, দীর্ঘকাল ধরে তিনি ব্রণ, একজিমা এবং ত্বকের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। বহু দামী ওষুধেও কাজ হয়নি। এরপর তিনি জনৈক দুই মহিলার থেকে ‘ইউরিন থেরাপি’ (Urine Therapy) বা ‘শিভাম্বু’ (Shivambu) সম্পর্কে জানতে পারেন।

লুসির দাবি অনুযায়ী:

  • পানীয়: তিনি প্রতিদিন সকালে তাঁর প্রস্রাবের নির্দিষ্ট অংশ পান করেন।

  • ত্বক ও চুল: প্রস্রাব তিনি মুখে সিরামের মতো মাখেন এবং চুলে কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করেন।

  • অন্যান্য: তিনি এটি দিয়ে কুলকুচি বা গার্গলও করেন এবং তাঁর দাবি, এতে তাঁর দাঁত ও মাড়ি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ হয়েছে।


🔹 চিকিৎসা বিজ্ঞানের মত (সতর্কবার্তা): লুসি অরা তাঁর ত্বকের উন্নতির দাবি করলেও, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বা ডাক্তাররা কিন্তু এই পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছেন। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এর কোনো উপকারিতা প্রমাণিত নয়।

কেন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?

  • বর্জ্য পদার্থ: প্রস্রাব শরীর থেকে বেরিয়ে আসা অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য এবং টক্সিন। এটি পুনরায় পান করলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

  • ব্যাকটেরিয়া: প্রস্রাব কখনোই পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত নয়। এতে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

  • ডিহাইড্রেশন: প্রস্রাবে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে, যা তৃষ্ণা কমানোর বদলে শরীরকে আরও বেশি জলশূন্য (Dehydrate) করে তুলতে পারে।


🔹 সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীন কিছু সংস্কৃতিতে এবং বিকল্প চিকিৎসায় প্রস্রাব ব্যবহারের উল্লেখ থাকলেও, আধুনিক গবেষণায় এর কোনো গুণাগুণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইউরিয়া (Urea) ত্বকের প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয় ঠিকই, কিন্তু সেটি কৃত্রিমভাবে তৈরি এবং সঠিক মাত্রায় থাকে। মানুষের কাঁচা প্রস্রাবে ইউরিয়ার পরিমাণ এতই কম যে তা ত্বকের কোনো উপকার করতে পারে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy