২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই বীরভূম তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভ ও অস্বস্তি প্রকাশ্যে চলে এল। বোলপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিন্হা দলের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের ওয়ার্ডে পরাজয় নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। মন্ত্রীর গলায় শোনা গেল আক্ষেপের সুর—নিজের এলাকায় হারার দরুন কলকাতার হাইপ্রোফাইল বৈঠকে তাঁকে সতীর্থদের বিদ্রুপের শিকার হতে হয়।
চন্দ্রনাথবাবু এদিন অকপটে স্বীকার করেন, “কলকাতায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আমাকে শুনতে হয় যে আমি সব জায়গায় জিতি কিন্তু নিজের ওয়ার্ডে হারি। অনেক কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও শুনতে হয়—আগে নিজের ওয়ার্ডে জিতে এসো, তবে কাজ দেব।” এমনকি বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ওয়ার্ডেও দলের পরাজয় নিয়ে সরব হন তিনি। তিনি জানান, এই হারের গ্লানি তাঁকে এবং কেষ্টবাবু দু’জনকেই কলকাতায় বয়ে বেড়াতে হয়।
বিজেপির পাল্টা তোপ: মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি বিজেপি। বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা কটাক্ষ করে বলেন, “উনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে ‘বাংলার বাঘ’ এবং তিনি দুজনেই নিজের ওয়ার্ডে হারেন। আগামী দিনেও হার নিশ্চিত বুঝেই তিনি এখন সাধারণ মানুষের করুণা পেতে চাইছেন। এবার কি দল তাঁকে টিকিট দেওয়ার সাহস দেখাবে?”
পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট: গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বোলপুর পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এমনকি অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিন্হার খাসতালুকেও ফুটেছিল পদ্ম। অথচ গত মাসেই রামপুরহাটের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমকে ‘১১-০’ করার ডাক দিয়েছেন এবং রাজ্যজুড়ে ২৫০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের গগনচুম্বী লক্ষ্য, আর অন্যদিকে খোদ মন্ত্রীর নিজের ওয়ার্ডে পরাজয় নিয়ে এই অসহায়তা—সব মিলিয়ে বীরভূমে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংশয় এখন অনেকটাই স্পষ্ট।