কলকাতার নিউ টাউনের সাপুরজি এলাকায় একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে এক যুবতীর পচাগলা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃত যুবতী পেশায় একজন বিউটিশিয়ান ছিলেন এবং ওই ফ্ল্যাটে একাই ভাড়া থাকতেন। ঘটনার বীভত্সতা প্রকাশ পায় যখন বাড়িমালিক তিনতলায় উঠে দেখেন যুবতীর বন্ধ ঘরের দরজার বাইরে মাছি ভনভন করছে এবং ভেতর থেকে উৎকট গন্ধ বেরোচ্ছে। খবর পেয়ে টেকনো সিটি থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত দেহটি উদ্ধার করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ এবং মৃতার পরিবার যা জানতে পেরেছে, তা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। জানা গেছে, মৃতার জনৈক প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর থেকেই ওই যুবক যুবতীকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতে শুরু করে। তাঁদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও ওই যুবকের কাছে ছিল, যা সে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল। লোকলজ্জার ভয় এবং নিয়মিত ব্ল্যাকমেলিং সহ্য করতে না পেরেই ওই যুবতী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
বাড়িমালিক জানান, গত কয়েকদিন ধরে ওই যুবতীকে বাইরে দেখা যায়নি। ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় সন্দেহ দানা বাঁধে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতার মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রেমিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সাইবার অপরাধ এবং ব্ল্যাকমেলিং কীভাবে এক তরুণীর প্রাণ কেড়ে নিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।





