মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করা নিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিরোধীদের সমর্থন চেয়ে চিঠি পাঠালেন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক বিতর্কও।
মোদীর চিঠিতে কী বার্তা?
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলনেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের উন্নয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা স্রেফ লক্ষ্য নয়, এটি একটি জাতীয় কর্তব্য। তিনি আর্জি জানিয়েছেন, এই বিলটি দ্রুত কার্যকর করার জন্য যেন দলমত নির্বিশেষে সকলে একমত হন। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা চালু করা।
বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে ‘মাস্টারস্ট্রোক’
প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করলেও বিরোধীরা এর সময়জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে কংগ্রেস ও তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছে:
জনগণনার গেরো: ২০২৭ সালের আগে জনগণনা এবং এলাকা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাহলে ২০২৯ থেকে কীভাবে এই আইন কার্যকর হবে?
বিলম্ব নিয়ে কটাক্ষ: বিলটি পাস হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেন চুপ ছিল সরকার, আর ভোটের আগেই বা কেন এই তৎপড়তা— সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
ওবিসি কোটা: বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি, মহিলা সংরক্ষণের মধ্যে ওবিসি (OBC) মহিলাদের জন্য বিশেষ কোটা রাখতে হবে। চিঠিতে সেই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে একাধিক আঞ্চলিক দল।
২০২৯-এর লক্ষ্যমাত্রা: কতদূর বাস্তবসম্মত?
কেন্দ্রীয় সরকার চায় ২০২৭ সালের নতুন সেন্সাস ডেটা আসার আগেই একটি বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে এই জট কাটাতে। তবে সংবিধান অনুযায়ী, এলাকা পুনর্বিন্যাস ছাড়া আসন ভাগ করা আইনত জটিল। ১৬ তারিখ থেকে শুরু হতে চলা বিশেষ অধিবেশনে এই বিষয়ে কোনো বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এখন দেখার, মোদীর এই ‘ব্যক্তিগত চিঠি’ বিরোধীদের মন গলাতে পারে কি না, নাকি মহিলা সংরক্ষণ ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়।





