সরকারি ত্রাণ পৌঁছেছিল ঠিকই, কিন্তু যাদের জন্য সেই সামগ্রী, তাদের কাছে তা পৌঁছানোর আগেই তা জমা হয়েছিল তৃণমূল নেতার গোডাউনে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল জানা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী রামকৃষ্ণ গিরির।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে নামখানা থানার পুলিশ হুজ্জাইত খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গোপাল জানার একটি গোডাউন ও রামকৃষ্ণ গিরির বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া জিনিসের তালিকায় রয়েছে—ত্রিপল, পানের বরজে ব্যবহারের শেডনেট, ধান ঝাড়ানো মেশিন, জৈব সার এবং সূর্যমুখী বীজ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত, এই সমস্ত সামগ্রী সরকারি প্রকল্প থেকে ত্রাণ হিসেবে স্থানীয় মানুষের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, এই সামগ্রীগুলি সাধারণ মানুষের হাতে না দিয়ে ওই দুই তৃণমূল নেতা নিজেদের ব্যক্তিগত গোডাউন ও বাড়িতে মজুত করে রেখেছিলেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার আঁচ পেতেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গোপাল জানা ও কর্মী রামকৃষ্ণ গিরি গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী বর্তমানে শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি বিস্তারিতভাবে রাজ্য প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী বিজেপি। বিজেপির দাবি, গরিবের অন্ন ও ত্রাণ সামগ্রী লুঠ করাই এখন তৃণমূলের সংস্কৃতি। যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের কোনো স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে তৃণমূলের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের আবহে ত্রাণ চুরির এই ঘটনা নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল শাসকদলের। শুধু নামখানা নয়, গত সোমবার মধ্যরাতে পূর্ব বর্ধমানের কালনায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের বিরুদ্ধেও ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশি তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। বাড়ি তালাবন্ধ থাকলেও, পুলিশি নজরদারিতে শেষ পর্যন্ত পালানোর সময় পুলিশের জালে ধরা পড়েন ওই প্রাক্তন বিধায়ক। একদিকে পূর্ব বর্ধমানের ঘটনা এবং অন্যদিকে নামখানার এই ত্রাণ লুঠ—দুইয়ে মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।





