পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া নাগরিকদের জন্য স্বস্তির খবর এল না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কয়েক লক্ষ মানুষ যে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার’ বা তালিকায় নাম ফেরানোর আবেদন জানিয়েছিলেন, সোমবার তাতে সাড়া দিল না ভারতের শীর্ষ আদালত।
আদালতে কী হলো আজ?
অন্তর্বর্তী আবেদনে না: আবেদনকারীদের দাবি ছিল, যেহেতু নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, তাই দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা ভোটাধিকার হারাবেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অন্তর্বর্তী হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়।
কমিশনের আইনি সুরক্ষা: নির্বাচন কমিশন যুক্তি দেখিয়েছে যে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর এবং নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর তালিকায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা আইনত ও প্রশাসনিকভাবে জটিল। আদালত এই যুক্তিতে এখনই বাধা দিতে রাজি হয়নি।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: আদালত আবেদনকারীদের জানিয়েছে, তাঁরা ট্রাইব্যুনাল বা নির্দিষ্ট ফোরামে গিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। তবে এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে নাম তালিকায় ঢুকিয়ে নেওয়ার যে দাবি ছিল, তা মানেনি কোর্ট।
কেন এই রায় ভোটারদের জন্য চিন্তার? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলো থেকে অভিযোগ এসেছিল যে, প্রচুর মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় তাঁদের একটা বড় অংশ এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হলো।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: শাসক শিবির বিষয়টিকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে গেলেও, বিরোধী দলগুলি দাবি করছে যে—এই রায়ের ফলে বহু মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে, কমিশন সূত্রে খবর, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করতেই ভুয়ো বা মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এখন একমাত্র উপায় ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ পেশ করা, তবে তা এই নির্বাচনের আগে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময় বলবে।





