পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ২৩ বছর পর শুরু হওয়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বুথ লেভেল অফিসার (BLO), উভয় স্তরেই চরম সংশয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম এত বড় মাপের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে কমিশনের তরফে আরও ব্যাপক প্রচার ও বিস্তৃত প্রশিক্ষণের অভাব ছিল। এর ফলে প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘জলের মতো পরিষ্কার’ হয়নি।
BLO-দের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের অভাব
মঙ্গলবার BLO-রা যখন এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করেছেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছে বিচিত্র অভিজ্ঞতা। বহু মানুষ এখনও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা নিয়ে সংশয়ে। এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো, বেশ কিছু BLO অভিযোগ করেছেন যে, কাজের পদ্ধতি নিয়ে তাঁদের কাছে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই।
কমলকুমার দাস নামে এক BLO জানান, প্রশিক্ষণের দিন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মিটিং শেষ হওয়ার আগেই এনরোলমেন্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। তিনি বলেন, “আমরা হয়তো পাড়ায় থাকি, জানতে পেরেছি উনি (ভোটার) মারা গেছেন। কিন্তু বাড়ির লোক বলছেন, না, উনি অন্য জায়গায় আছেন।” এমন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিয়ে তাঁরা নিজেরাই দিশেহারা।
সাধারণ মানুষের সংশয় ও কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা
মানুষের মনেও জমেছে হাজারো প্রশ্ন। বরানগরের মহুয়া বসুর মতো অনেকেই নিশ্চিত নন যে, এই সংশোধনে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে কিনা। তিনি বলেন, “আমার বাবা মারা গেছেন গত বছর, মা এখন পেনশনার। আমার নাম উঠতেও পারে, নাও পারে। ২০০২ সালের হিসেব নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। বাকি ৩ জনের নাম থাকা উচিত ছিল। তাদের কারও নাম নেই।”
বিশেষজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলছে—যে প্রক্রিয়াটি ২৩ বছর পর হচ্ছে এবং যা সরাসরি লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, সেখানে এত বড় মাপের সংশয় কেন থাকবে? সাধারণ মানুষের মনে কোনও প্রশ্ন না থাকে, তার জন্য আরও আগে থেকে কেন কমিশনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হলো না? সময়মতো ব্যাপক প্রচার এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনে SIR প্রক্রিয়াটি নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় বহুলাংশে দূর করা যেত।





