নাইট শিবিরে বড় ধাক্কা! রঘুবংশীর বিতর্কিত আউট নিয়ে বড় খোলসা করল ক্রিকেটের নিয়ম রক্ষক সংস্থা

আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে কেকেআর ব্যাটার অংক্রিশ রঘুবংশীর ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। এবার সেই ধোঁয়াশা কাটাতে ময়দানে নামল ক্রিকেটের নিয়ম প্রণেতা সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (MCC)। লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ভিত্তিক এই সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, থার্ড আম্পায়ার রোহান পণ্ডিতের নেওয়া রঘুবংশীকে আউট দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক ছিল।

কী ঘটেছিল সেই ম্যাচে? গত রবিবার একানা স্টেডিয়ামে লখনউয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের পঞ্চম ওভারে একটি কুইক সিঙ্গল নিতে গিয়ে ক্রিজের মাঝপথে পৌঁছে যান রঘুবংশী। তবে পার্টনারের ডাকে আবার ফিরতে শুরু করেন তিনি। সেই সময় ফিল্ডারের থ্রো সরাসরি রঘুবংশীর গায়ে লাগে। আম্পায়াররা প্রযুক্তির সাহায্য নিলে দেখা যায়, রঘুবংশী তাঁর দৌড়ানোর পথ বদলেছিলেন এবং বল ও স্টাম্পের মাঝে চলে এসেছিলেন। এরপরই তাঁকে আউট ঘোষণা করা হয়।

এমসিসি-র ব্যাখ্যা: এমসিসি তাদের বিবৃতিতে আইনের ৩৭.১.১ ধারার উল্লেখ করে জানিয়েছে:

  • দিক পরিবর্তন: রঘুবংশী দৌড়ানোর সময় তাঁর গতিপথ পরিবর্তন করেছিলেন। অফ-সাইড থেকে দৌড় শুরু করে তিনি পিচের মাঝখানে চলে আসেন এবং পরে লেগ-সাইডে ডাইভ দেন।

  • ইচ্ছাকৃত কাজ: নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার যদি দ্রুততম পথে ক্রিজে না ফিরে পথ পরিবর্তন করেন, তবে তা ‘ইচ্ছাকৃত কাজ’ (Wilful Act) হিসেবে গণ্য হয়।

  • ব্যতিক্রম: যদি তিনি সোজা পথে দৌড়াতেন এবং বল তাঁর গায়ে লাগত, তবে তাকে আউট দেওয়া হতো না। কিন্তু রঘুবংশীর ক্ষেত্রে তিনি নিজেই বলের লাইনে চলে এসেছিলেন।

এমসিসি আরও স্পষ্ট করেছে যে, রঘুবংশী ক্রিজে আগে পৌঁছাতে পারতেন কি না, তা এই আউটের ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় নয়। বাধা দেওয়াটাই এখানে মুখ্য। প্রাক্তন আম্পায়ার অনিল চৌধুরী বা বীরেন্দ্র শেহবাগের মতো অনেকে একে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেও, ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়াররা যে ভুল করেননি, তা এখন প্রমাণিত।

এই আউটের ফলে ইউসুফ পাঠান, অমিত মিশ্র এবং রবীন্দ্র জাদেজার পর আইপিএলের ইতিহাসে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে এই লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখালেন তরুণ নাইট তারকা অংক্রিশ রঘুবংশী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy