দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক বিজেপি নেতাকে লক্ষ্য করে ভরসন্ধ্যায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
কী ঘটেছিল?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সন্ধ্যায় নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার (নির্দিষ্ট জায়গার নাম) ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী ওই বিজেপি নেতার পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। এলোপাতাড়ি কোপ মারার পাশাপাশি এলাকায় বোমাবাজি বা গুলি চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বিজেপি নেতা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চম্পট দেয়।
আক্রান্ত নেতার এক ঘনিষ্ঠ কর্মী জানান, “পরিকল্পিতভাবে ওঁকে খুন করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় ওঁকে ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয়েছে, অবস্থা খুবই সংকটজনক।”
কাঠগড়ায় শাসকদল, রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে
এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। দলের এক প্রথম সারির নেতাকে এভাবে খুনের চেষ্টা সেই হিংসারই অংশ।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগ নেই, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা বা এলাকার কোনো অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরে ঘটে থাকতে পারে।
তদন্তে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় টহলদারি শুরু হয়েছে। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।





